উপনঃাঙসের উপকরণ

উপন্যামের উপকৰণ

গুরচাস ভেপানেোন্র আপ লু

0৬ - - জগ পানও হ্যালিজ্

ছুই টাকা আউ আনা

আধাট--১৩৬৩

একথান! বাধানো৷ খাতা হাতের কাছে পেয়ে ছি কি লিখ যেন তকৃতকে ঝকৃঝকে কুটার তৈরি ক'রে সব দরজী" খুব খে চুপ ক'রে »মে আছি, পথিক ঘদি কেউ আসে!

অথচ ওর দুটোই সত্য কোনটা কোনটার উপমা! নয়।

ত্রিশ বসর ধরে দেশ-দেশান্তর ঘুরে শেষ জীবনে বাংলার এক মা-বড় না-ছোঁট শহরে ঠিক সেই রকমেরই একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা ক'রে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছি। উদ্দেশ্ঠট, দেশের মাটির ধুলোয় দেহের ছাঁই উডডিয়ে দেওয়]।

দীর্ঘকালের ভবঘুরেরা কেমন যেন এক অদ্ভুত জীবে পরিণত হয়। আমি নিজে গিয়ে কারও সঙ্গে আলাপ করি নি। কয়েকমাস হ'ল এই শহরে এসেছি, আমার পরিচয়ও কেউ জানতে চায় নি। লোক- পরিচয়ের ক্ষেত্রে গ্রাম এবং শহরে এইখানেই তফাতি।

কিন্তু খাতাখান। শূন্য প'ড়ে রইল, ঘরখানিও তাই। লেখাও আসে না, অতিথিও না বোধ হয় বুদ্ধের সংসর্গ ওরা পছন্দ করে না।

অগত্যা পুরাতন লেখার দপ্তর খুলে বসি। বড় আশ্চর্য হই লেখাগুলে! পঃড়ে। মনে হয়, কে যেন জোর করে আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিল। কতক হারিয়ে গেছে, কতক পোকায় কেটেছে। যে কটা বাকি ছিল, ঝেড়ে মুছে নকল ক'রে আজ বহুকাল পরে তাদের আত্মপ্রকাশের স্থযোগ দিলাম। ভাগ্যপরীক্ষারও, আমার নয়, লেখাগুলোর।

ছোট্ট বাংলো-প্যাটানের বাঁড়ি। সামনে একটু ফুলের বাগান, আমার নিজন্ব ত্ষ্টি। কাব্যলেখা ফুলের চাষ, আমার মনে এই দুইয়ের মধ্যে কিছুমাত্র পার্থক্য নেই।

উপন্যাসের উপকরণ ওমর কহে, আমার বাণী জগৎকে আজ শুনিয়ে দিয়ো রক্তগোলাপ রঙিন সরা আমার কাছে সমান প্রিয়

শেষ পর্যন্ত রূঙিন স্থুরার চেয়ে রক্তগোলাপ বেশি কা্দে লাগল। অল্প দিনের মধ্যেই স্বরাঁর বোতল নিঃশেষ হয়ে গেল, পচানো মদ, নেশাও ভাল জ'মে উঠল না। অর্থাৎ, রচনার পুরাতন সঞ্চয় ফুরিয়ে গেল, নৃতন কৃষ্টি সম্ভব হ'ল না। কেমন ক'রে হবে? মদ-চোয়ানো যন্ত্রটাই গেছে বিকল হয়ে

চির-উর্বর ওই রক্তগোলাপের ক্ষেত্র মাতা পৃথিবীর অফুরন্থ দাঁক্ষিণ্য মূদু জলসিঞ্চনেই আত্মপ্রকাশ করে। আমার ছোট ফুলের বাগানে যে কটি গাছ বুনেছিলাম, সবগুলি তাঁর বেঁচে নেই সত্য, বীচবেও না, তবু আমার ইচ্ছামত নৃতন নতন বুনতে পারি।

স্পষ্ট বুঝতে পারি, প্রথম জীবনে লেখা গল্প, কবিতা, উপন্তাস প্রভৃতির মূল উতৎ্দ কোথায়! জলসিঞ্চন। আমার ন্নেহ-বঞ্চিত শু হৃদয়ে আজ তারা জ্রাগবে কেন, বাচবে কেন? জলসিঞ্চনের একান্ত অভাব।

স্থুরার অভাবে রক্তগোলাপ কাজে লাগতে পারে, কিন্তু বুক্তগোলাপ না থাকলে বুঙিন সুন্নার কোনও সার্থকতাই নেই। রঙিন চোখে দেখব কি? গোলাপ বরং বিনা নেশীতেই আমার চোখে রডের ঘোর লাগিয়ে দিতে পারে।

বাস্তবিক, হ'লও তাই। আমাকে এই কাব্য-সংকট থেকে উদ্ধার করলে, গোলাপ নয়, গীদা। এই কয় মাসে আমার বাগানের চারিপাশে ফুটেছিল প্রচুর গাঁদাফুল, জায়গাটাকে আলো ক'রে

উপন্তাসের উপকরণ

রেখেছিল গোলাপের চাষ অত সহজ নয়। গরিবের ঘরে কি রাজরানী আমে?

না আস্থক, আমার গাঁদাই ভাল। ওর প্রাচূর্ধে আমার মন ভ'রে বায়। কোন্টা ভাল? বিরল উৎকর্ষ, না, সহজ প্রাচুর্য? কথাট! আজও আমি ভেবে ঠিক করতে পারি নি।

সেদিন সকালে বাগানে বসে আছি। রাস্তার দিকে পিঠ ক'রে ছোট্ট ক্যাম্প-চেয়ারে বধে বসে চুরুট টানছি। শীতের রৌদ্র বাগানে পড়ে গাদাফুলের রঙে মিশিয়ে গিয়ে সোনালী আভা ধারণ করেছিল। একদৃষ্টে গোলাপগাছটার পানে চেয়ে আহি, না, ওটা বাচবে না।

দাদু!

ডাক শুনে চমক লাগল। পিছন ফিরে দেখি, একটি সাত বছরের ছেলে। আট বছরও হতে পারে।

কি চাও?

আজ সরম্বতী-পুজো। গোটা কতক ফুল দেবে? গ্যাদা ফুল? তোমার তো! অনেক ফুটেছে, দীও না ছুটো ?

সপ্রতিভ বালক। মা-সরস্বতীর দূত। আমার কাব্য-চর্চায় কাজে লাগতে পারে। অভ্যর্থনা ক'রে বাগানে ঢুকিয়ে তার ক্ষুদ্র অঞ্জলি ভরে প্রাথিত ফুল তুলে দিলাম। বড় বড় চোখ মেলে সে আমার মুখের দিকে চাইল, চোখে চোখ পড়তেই ছুটে পালিয়ে গেল।

তোমার নাম কি খোকা ?-তার ছোট্ট মুঠোয় ফুল দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। নে বলেছিল, বিশ্বনাথ

বিশ্ব-বীলক ! মাথায় টাক আর সাদ! চুল দাড়ি থাকলেই যেকোনও

উপন্যাসের উপকরণ

ব্যক্তি দাছু হয়ে যেতে পারে। অবশ্ত, গাঁদাফুল-সংগ্রহের গরজটাই ছিল মূলে ' একটু পরেই টের পেলাম, আমার ব্যবসায়-বু্ধির এবাস্ত অভাব। তার কাছে খবর পেয়ে মা-সরস্বতীর সৈন্যদ্দল আমাকে ঘিরে ফেলে আক্রমণ করলে বয়সের এবং একটু ছোট-বড় এক দল ছেলেমেরে। ভাগ্যে ফোটা ফুল যথেষ্ট ছিল এবং ওদের হাঁতের মুঠিগুলি ছিল ছোট ছোট!

ফুল সংগ্রহের কৌশলটাও শিখে এসেছিল, বললে, দাছু ভারি ভাল লোক

ছেলেরা গগ্য-কবিতা, মেয়েরা পদ্য

কিছু পরে সাহস পেয়ে এল আর এক দল ছেলেমেয়ে, বয়সে কিছু বড, কিশোর-কিশোরী বল! যেতে পারে ফুলের লোভেই আনা, কিন্তু বড চঞ্চল, মতিগতির স্থিরত1 নেই ফুল তুলে কেউবা ছুটে! খোপায় ' জলে, কেউ বাঁ পকেটে ব্যাপারটাতে বেশিক্ষণ মন বসল না, বাগান ছেড়ে সটান আমার বসবার ঘরে ঢুকে পড়ল। অগত্যা আমাকেও তাদের পিছু পিছু আসতে হ'ল।

কলকণে অনর্গল অসংলগ্ন বকে যায়, অপর পক্ষকে কথা কইবার স্থযোগ দেয় না।

ওটা কি বই? সংস্কৃত বুঝি? আপনি পড়েন?

এই যে] বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলীও রয়েছে দেখছি! আমাদের ইচ্ফুলে “আনন্দ মঠ” পড়ানো হয়।

লাল রঙের বীধানো৷ খাতাটা কিসের? (খাতাখান। খুলে ফেলে ) বা% যে দেখছি কবিতা! আপনি লেখেন?

খোল! পাতাট! থেকে ছুটে! লাইন প:ড়ে ফেললে-__

উপন্যাসের উপকরণ

পাপ-পথে ধন কর অঞ্জন যাদের লাগি-- হবে কি তাহারা তোমার পাপের অংশভাগী ?

বেশ তো! বত্বাকর দস্থ্ার গল্প আমাদের বইয়েও আছে, তবে সেটা গগ্।

ছেলেটা অতিমাত্রায় বুদ্ধিমান-_এ কথাটা মনে মনে স্বীকার করতেই হ'ল।

এই রকম চলতে থাকে এবং আরও চলত কিন্তু ক্রমেই তার! গম্ভীর হয়ে উঠল। বাস্তবিক, কতই বা বকতে পারা যায়! হয়তো বা বাডির শাসন মনে পড়েছে ক্ষিধেও পেয়ে থাকবে ধীরে ধীরে তারা বিদায় নিলে।

ছোটগল্পের দল! কতক রিয়ালিস্টিক, কতক রোমান্টিক ফুল নিতে আসা শুধু নয়, নৃতন মানুষ সম্বন্ধে কৌতুহল অপরিসীম

যাবার সময় তাদের একজন বলে গেল, ঠাক্মা আপনার কথ! বলছিলেন বলছিলেন, ভদ্রলোক কতদিন হ'ল এসেছেন, খোজ-খবর নেওয়৷ হয় নি। আজ আসবেন

বিধাতার দান। চাইলে পাওয়া যায় না, না চাইতে অনেক আমে বুঝলাম, এরা নিকট প্রতিবেশী। বহু দিন পরে কর্তব্যবোধ জেগে উঠেছে।

খাওয়া-দাওয়ার পর শুয়ে শুয়ে একটা মাসিক পত্রিকার পাতা উলটিয়ে পড়বার চেষ্টা করতেই দ্বারে করাঘাত। দুয়ার খুলে দেখি, সম্মুখে এক স্থুলাঙগী ব্ষীয়সী মহিলা, চোখে লোনীর চশমা, পায়ে চটি, সর্বাঙ্গ ভারী ভারী গহনার ভারে আক্রান্ত আমি যখন দেশ ছেড়ে

উপন্যাসের উপকরণ

চলে যাই, বাঙালী মহিলার এই রূপ অন্তত আমার নজরে পড়ে নি।

মনে মনে তিরিশ বছর পিছিয়ে গিয়ে সাহম ক'রে বললাম, আম্বন দিদি, বস্থন। দীড়িয়ে রইলেন যে!

বসলেন না। কিন্তু দাড়িয়ে দীড়িয়েই যা ক'রে" গেলেন, তাতে যে কোনও ঠাণ্ডা মাথ! গরম হয়ে উঠতে পারে

প্রথমেই আমার পরিচয় খোজখবর নিলেন। যেটুকু শোনানো সম্ভব শুনলেন, এবং তাতেই তীর স্মেহ-সমুদ্র উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল। ক্ষুদ্র “দিদি? ডাকের ফল। এতদিন আসতে পারেন নি ঝলে অনুতপ্ত হলেন, সময়াভাব। কিন্তু আজ কেমন ক'রে সময় পেলেন, তার কৈফিয়ৎ দিতে ভূললেন।

বণলেন, তুমি বড় ছেলেমেয়ে ভালবাস ভাই। পণ্ট, বললে ও-বাড়ির দাছু ফুল দিয়েছে একদিনেই দাছু। ভালবাসা বুঝতে ওদের একটুও সময় লাগে না। চিন বললে__-একদ্রিন সে বাগানে ঢুকে ফুল তুলেছিল, দেখেও তাঁকে তুমি কিছুই বল নি। তুমি নাকি রামায়ণ লিখছ? একদিন এসে শুনব।

চিন্থু কবে বাগানে ঢুকেছিল, আমি দেখিও নি, মনেও নেই এই সব প্রথম দর্শনেই “দিদি-সন্বোধনের প্রতিদান। আনার প্রতি একে- বারে তিমি” সঙ্গোধনও তাই *

রামায়ণ লেখবার স্পধ1 আমার কোনও কালেই ছিল না, আজও নেই। বামায়ণ মহাভারত থেকে আখ্যায়িক1 নিয়ে “কথা কাহিনীর অন্গকরণে কয়েকটা কবিতা লিখেছিলাম বুঝলাম, সেই অতি-বৃদ্ধিমান ছেলেটার এই অপপ্রচার, এত সত্বর এবং মর্সঘাতী |

তারপর শুরু হ'ল নিজের কথা। কর্তা ওকালতি করেন। সংসার-

উপন্তাসের উপকরণ

বিষয়ে তিনি উদাসীন। চুটিয়ে রোজগার ক'রে চলেছেন। সংসারের সব খুঁটিনাটি আমাকেই দেখতে হর, এমন কি, ভদ্রতা রক্ষা পর্ধবস্ত। নিজের অস্থলের অন্থুখ, বধূদের কর্তব্যজ্ঞানহীনতা, তারা আজকালকার মেয়ে _জানেই বাকি আর বোঝেই বা কি, ঝি-চাঁকরের অস্থৃবিধা ছুধ মাছ কোথায় সস্তা, কলকাতা! ভাল, না পাঁড়া-গ! ভাল, এই সব এবং আরও কত কি! পণ্ট-চিন্ত তার নাতি-নাতনী, ছোট বড় আরও কতকগুলি আছে।

শুধু প্রশংসা করলেন তার, যে বউটি গত বং্সর মারা গেছে। চোখের জলও ফেললেন একটু ছেলের আবার বিয়ে দিয়েছেন, তাও বললেন। ছেলেদের বিষয়ে মন্তব্য করলেন, আহা, ওর! কাজকর্ম নিরে থাকে।

টেবিলের উপর মাথা রেখে, মাথার রগ টিপে ধ'রে শুনতে বাধ্য ভই। কিন্ত তিনি আমার প্রতি গোড়া থেকেই শ্নেহশীলা। আমার নিঙ্রালু ভাব দেখে বললেন, আজ্গ তবে আসি ভাই। এবং যাবার সময জানিয়ে গেলেন, আমার কোনও অস্থবিধা হ'লে নিঃনংকোচে যেন তাকে জানানো হয়।

ধেন ফেনিয়ে ফেনিয়ে টেনে টেনে লেখা একখান] বৃহদাকার উপন্যাস

বল! বাহুল্য, রাত্রে কোনও ঘটনা] ঘটে নি। সারাদিনের উপদ্রবে উত্তেজনায় ঘুমটাও ভাল হয়েছিল।

উপদ্রব? কখনই না। এই তো আমি চেয়েছিলাম। বরং এদের আনাগোনায় দিন কাটছে ভাল। উকিলবাবু নিজেও একদিন এসেছিলেন বাস্তবিক, কর্মনিমগ্ন জীবন তার। আমিও মাঝে মাঝে কারও কারও বাড়ি যাই, ছেলেমেয়ের! ধ'রে নিয়ে যায়। প্রকাশিত অপ্রকাশিত রচনার ভক্ত পাঠকের দলও গণড়ে উঠছে ক্রমে ক্রমে

উপন্যাসের উপকরণ

হতে পারে। আমার দ্বার! সাহিত্য-স্থষ্টি এখনও সম্ভব। শিশু- সাহিত্য, কবিতা, ছোটগল্প এমন কি, উকিল-গিন্নীর বিশাল ংসার অবলম্বনে বিরাট একট। উপন্তাসও হয়তে। লিখতে পারি মনে হচ্ছে, ছেলেমেয়েদের মুছু বর্ষণের পর উকিল-গিন্নীর হলকর্ষণ আমার মনঃক্ষেত্রকে যেন কতকটা উর্বর ক'রে তুলেছে

সেই অব্যবহৃত বীধানো খাতাট! খুলে সেদিন সকালবেলায় কিছু একটা লেখবার সঙ্কল্প ক'রে টেবিলের সামনে ঝসে বসে ভাবছি। দরজা খোলাই ছিল। সহসা জুতোর খটুখটু শব্দে চমকিত হয়ে দরজার দিকে চেয়ে দেখি, কে যেন দাড়িয়ে আছে! আগন্তক দৃষ্টিগোচর না হ'লেও তার অস্তিত্ব অনুভব করি। উঠতে যাব, এমন সময় মধুর কষে বাইরে থেকে প্রশ্ন এল, মে আই কাম ইন ?

টেবিলের ঝা পাশে ছিল বধ্ষিমচন্ত্রের গ্রন্থাবলী। প্রচ্ছাদপটে ছিল তারই ছবি। ইংরেজী কথাটা আমার কর্ণে ধ্বনিত হ'ল--পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ? রক্তকরবীর কবি বলেছেন, পাখির কূজন বৃদ্ধ বটবৃক্ষের প্রাণে পুলক জাগিয়েছিল

মেআই কাম ইন? ভারি সুন্দর কথাটি। মানষের ঘরে মানুষ আসতে চায়, মানুষের মনে ঢুকতে চায় মানুষের মন।

হ্যা, হ্যা, আপতে পার, দরজা তো খোলাই আছে একট! পর্দাও টাঙানো নেই

তরুণী। একেবারে মভীর্ন। ছোট একটি নমস্কারের পর নতচক্ষে ্াড়িয়ে রইল। বসতে বলি, এবং সে চোখ নামিয়েই বসে থাকে।

বাঙালীর মেয়ে। অনেক কিছু পালটে গেছে। কিন্তু এত নত- চক্ষুতে আজও তারা ধর! পঃড়ে যায়।

আমার জিজ্ঞাস্থ দৃষ্টির উত্তরে সে ব্ললে, সে কয়েকটি কবিত।

উপন্যাসের উপকরণ

লিখেছে, দু-একটা আমাকে শোনাতে চায়। এই ঝুলে, সসংকোচে তার আচলের ভিতর থেকে একটি ছোট বীধানো খাতা বের করলে আমার হাতে কোনও কাজ নেই, কাছে কোনও সঙ্গী নেই, আর পিছনে কিছু পিছটানও নেই। বসে বসে হাপিয়ে উঠেছি। সময় কাটানোর স্থবিধার জন্য কৃতজ্ঞহৃদয়ে কবিতা শুনতে প্রস্থত হয়ে বমি। কম্পিত কণ্ঠে মেয়েটি পড়লে__ জনাকীর্ণ বিশাল পৃথিবীর পথের ধারে বাধব আমি বাসা, ঠিক যেন সে বিহন্গমের নীড়, পথিকের! করবে যাওয়াআসা। মোর আডিনায় বলবে তার! সবে, দান-প্রতিদান চলবে পরস্পর, মুখর হবে মিলন-মহোত্সবে মধুর হবে পথের ধারের ঘর বাধা দিয়ে জিজ্ঞাসা করি, তাদের মধ্যে যদি চোর থাকে কেউ ? সাহস পেয়ে সে পরিষ্কার গলায় আবৃত্তি করলে-_ হোক না তারা সাধু কিংবা চোর, হোক ন1 তার! মন্দ এবং ভালো, পথের ধারের ঘরখানিতে মোর মিলবে এসে আধার এবং আলো।। কেউ বা! তাদের পাত্রে ঢালি সুরা গাইবে বসে হতাশ-প্রেমের গান, অপর কেহ বাজিয়ে তানপুবা স্থরের আলোয় করবে উজল প্রাণ।

উপন্যাসের উপকরণ ১০

মেয়েটার সাহস তো কম নয়! চোরুও ঢুকবে, মাতালও টুকবে। আমি তো চমকে উঠলাম। তবে এই ভেবে আশ্বস্ত হলাম যে, তাৰ কবিতা ছাড়া কিছুই নয়, সত্যিকার কিছু করতে যাচ্ছে না ও-রকম।

আরও প'ড়ে যেতে লাগল।

কবিতাটি দীর্ঘ তবু সবটা তুলে দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল না, কারণ পরে ছাপার অক্ষরে আমার হাতে এসেছিল। কিন্তু তা হ'লে আমার কথা বলা হয় না।

আমি বললাম, তট্রকু আমি শুনলাম, খুব ভাল লেগেছে।

প্রশংসা শুনতেই আসা, কিন্তু আমার কথা শুনে সে লজ্জার লাল ₹য়ে উঠল। অবগত সেটা স্থারী নয়। বেশ বুঝতে পারা গেল খে, অল্পক্ষণের আলাপেই আমার সম্বন্ধে সব সঙ্কোচ সে কাটিয়ে উঠেছে এটা সেই লজ্জা, যা আত্ম-প্রশংসা শুনে পুরুষ এবং নারী, যাদের ভদ্র তরুণ মন, নমানভাবেই পায়।

হঠাৎ মেয়েটি অ।মাকে প্রণংম কবে উঠে বললে, আপনাকে আমি কি বলে ডাকব?

বাঙালীর মেয়ে। মাত্র এক ঘণ্টার আলাপে আমাকে একটা কিছু ব'লে ডাকতে চার

বললাম, আজকের কাজ তে! চুকে গেল, মে এর পর স্থির করা যাবে। কিন্ত আবার এসো ,

ভয়ে ভয়ে সে ব'লে ফেললে, না, এবার আপনার পালা এই ব্‌সলে চক্ষের পলকে নৃত্যচপল গতিতে অন্তহিত হল।

ছিপছিপে একভার। চেহারাঁ_বেমনটি দেখে সংস্কৃত কবিরা “দেহলতা, একটা আবিষ্কার কবেছিলেন ; গায়ের রঙ নবমীর জ্যোতস্সার মত। চোখের পাতার নীচে নিগ্ধ ছায়া, নবমীর জ্যোত্্া সেখানে পূর্ণ প্রভাব

১১ উপন্যাসের উপকরণ

বিস্তার করতে পারে নি, যেমন জ্যোতসা-রাতে তরুলতায় ঘেরা দীঘির কালো জল। হাঁসিটি মিষ্ট এবং উজ্জ্বল, নবমী থেকে পৃিমা পর্বত পাঁচমিশালি জ্যোতস্সা তাতে লীলা ক'রে বেড়ায়। কণম্বর কোকিলের মত নয়, কোকিল চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে গল ফাটায়,__এতখানি কবিতা পড়ে গেল, কিন্তু উন্চারণে ছন্দোলালিত্য একটুও বিকৃত হ'ল না। স্থির ধীর --ছিল শুধু মবদুকম্পন। যে কম্পনে বীণার তার বণরণিয়ে ওঠে

আমার এই বর্ণনা অতযুক্তি ভতে পারে_বজ্াথাতে অধদগ্ধ বুদ্ধ নিঃসঙ্গ বটবৃক্ষ পাখির কুজনকে এমনই করেই বড় ক'রে দেখে

এমনই চঞ্চল যে, নিমন্ত্রণ ক'রে গেল, কিন্তু বলে গেল না তার নাম-ঠিকান!।

কিন্ত চোখ বুজে বসে ভাবতে গেলে মনে পড়ে, একটি স্থিরমৃতি, একথানি অচঞ্চল ছবি।

যেন উচ্চভাবের লঘুনাটিক1 একখানা

কিন্তু তার ঠিকানা কোথার পাব? শহরটি তো নিতান্ত ছোট নয়?

মনে ভাবলাম, এই মেয়েটিকে কেন্দ্র ক'রে একখানা নাটকের প্লট গ'ড়ে তুলতে হবে। কিন্তু তা হয়ে উঠছে না। প্রট জমে তো৷ ভাষা জমে না, ভাষা জোটে তে] প্লট যাঁয় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে। অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে ও-পথ ছেড়ে দিলাম।

আর একট] মন্ত বাধা, এই ধরনের মেয়েদের আমি মোটেই চিনি ন1। কবিতা শোনার অল্প-পরিচয়ের ওপর নির্ভর ক'রে যে নাটক বা উপন্যাস সথষ্ট হবে, তা হবে নিতান্ত কাল্পনিক, একান্ত অবান্তব। ওসব যৌবনে

উপন্যাসের উপকরণ ১২

অনেক লিখেছিলাম, এই বয়সে উত্সাহ জাগে না। পোকায় খেয়েছে, ভালই করেছে; হারিয়ে গেছে, বেশ হয়েছে

বার্ধক্যের শ্রেষ্ঠ অবদান-_মেয়েদের সংকোঁচহীন ব্যবহার ভাবহীন শু ঘোলাটে দৃষ্টিতে ওরা অবিশ্বাসের কিছু দেখতে পায় না। অল্প- পরিচয়েই এই অপরিচিতা যেভাবে অপরিচয়ের বাধা কাঁটিয়ে উঠেছিল, একটু বেশি মেলামেশার ফলে, ধীরে ধীরে আমি তাঁর মনের ভাব! পড়বার স্থযোগ পেতাম শিক্ষিত তরুণী_-কবিতা লেখে, পথের ধারের ঘরখানিতে তার অতিথি-সমাগমের সাহস রাখে--একখানা উপন্যাস, অন্তত একটা মনস্তাত্বিক গল্পের উপাদান জুটতই | হায়, আমি ভেলায় হরিয়েছি, গরজ ক'রে তার ঠিকানাটা জেনে বাঁখি নি।

এই সব অনাবস্ক ছুর্ভীবনায় মন মন্তিফ ভারাক্রান্ত, এমন সময় এক গুরুতর দুর্ঘটনায় জড়িত হয়ে পড়ি। এই পাঁড়ারই পারিবারিক ব্যাপার, বিবাহ-ঘটিত।

ছেলের ম| মেয়ের ম1 উভয়েই পতিহীন1। প্রায় নিঃসম্বল। এরূপ ক্ষেত্রে পাঁচছনের সাহাধ্য সহা'হ্ছভৃতি ছাড়া কার্ধ-নির্বাই এক রকম অপভ্ভব। অর্থ, পরামর্শ পরিশ্রম দিয়ে স্বতংপ্রবৃত্ত হয়ে আমি নিজেও এই ব্যাপারে যথাসাধ্য করতে ত্রুটি করি নি। সামাজিক ক্রিয়া__ পরস্পরকে নিয়েই তে! সমাজ, না করলে চলবে কেন?

উভয় পক্ষই আমাকে বিয়ের পদ্চ লিখতে অন্গরোধ করে। তাদের মেই অস্থরোধও আমি সাধ্যমত রক্ষা করি। কিন্ত ক্ষেত্রেও আর একবার আমি আমার বিষয়বুদ্ধির নিদারুণ অভাবের পরিচয় দিলাম উতর পক্ষের ওকালতি করতে গিয়ে। হায়, কে জানত তখন যে, পরে এই উভয় পক্ষ ছুই বিরুদ্ধ পক্ষে পরিণত হবে ?

শুভকার্ধ আমার বাড়িতেই সম্পন্ন হ+ল--এবং নিবিষ্বে। তাদের

১৩ উপন্যাসের উপকরণ

নিজের বাড়িতে স্থানীভাব। বিবাহের রাত্রিতে কোনও গৌলমালই হয় নি। বরপক্ষ কন্তাপক্ষ তুরি-ভোজনে তুষ্ট হয়ে যে যাঁর ঘরে চ'লে গেল __ভুরিভোজন আমারই অর্থব্যয়ে মেয়ের মা, ছেলের মা তারা দুজনও একটু বেশি রাত্রে বিদায় নিতে বাধ্য হল। আমার শয়নকক্ষে লোহার বামর-ঘরে বর-কনে শুয়ে রইল।

সকালবেলায় বাসি-বিয়ে। এতেও কিছু খরচপত্র হ'ল--অবশ্ঠ আমারই পকেট থেকে গোড়া থেকেই ছোটখাটো বিশ্ল,মানে_£বরপক্ষ কন্তাপক্ষের মধ্যে খুঁটিনাটি ঝগড়াঝাঁটির উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু আমি নিছে মধ্যস্থৃতা ক'রে অতি কষ্টে অস্কুরেই তাদের বিনাশ ঘটিয়েছিলাম।

এইবার মেয়ের শ্বশুর-বাড়ি যাওয়ার পালা ছেলের মা ছেলে-বউ নিয়ে শুভক্ষণে যাত্রা করল। উলু পড়ল, শশাখ বাজল। বীচা গেল, যেন আমারই দায় হয়ে উঠেছিল! এত ঝঞ্চাট জানলে, এই সব পরের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতাম না। ক্মেন ক'রে জানব? আমি তো কখনও ছেলেমেয়ের বিয়ে দিই নি। আজীবন ভবঘুরে

আপনারা ভাবছেন, ছেলের মা বিয়ে দিতে এল, কি রকম কথা? গায়ে ঘরে নিজেদের মধ্যে বিয়ে, ও-রকম হয়ে থাকে। তা ছাড়া মনে রাখবেন, আহা, বর-ক'নে দুজনেই পিতৃহীন।

মেয়ের মা পা ছড়িয়ে কাদতে বসল। সাত্বনা দিয়ে বললাম, এমন দিনে কাদতে নেই কাদ্রবেই যদি, মেয়ের মা হতে গেলে কেন?

আমার যে ছেলে ছিল না, একটিও না। বাবাকে এত ক'রে বললাম, তা তিনি তার নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত।

বাস্তবিক, উপায় ছিল না, বাধ্য হয়েই তাকে মেয়ের যা! হতে হয়েছে বললাম, আমার তো কাজ নেই, এর ব্যবস্থা আমিই করব। তুমি দুঃখ করো না।

উপন্যাসের উপকরণ ১৪

বাধার ওপর অভিমান তার ঘুচল না, মুখ ভার ক'রে বাড়ি চ'লে গেল।

পরদিন কুরুক্ষেত্র কাণ্ড, আমার বাড়িতেই। পদ্য ছুটো নিয়ে ছাপা হয় নি, হাতে-লেখা কবিতা আমিই বিবাহ বাসরে মাগত ভদ্রমগ্ডলী'কে পড়ে শুনিয়েছিলাম। ছেলের মা বলে, আমারট। ভাল ; মেয়ের মা বলে, আমারটা

আমার কাছে তারা বিচার চায়। আচ্ছা, বলুন তো, আমারই লেখা দুটো কবিতা, কেমন ক'রে বলি, কোন্টা ভাল? এমন বিপদে ওমান্থষে পড়ে ?

মেয়ের মা রেগে বললে, দে, আমীর মেয়ে ফিরিয়ে দে। আমি বিয়ে ভেডে দিলাম।

দুদিনেই বিবাহভঙ্গ, আমি কল্পনাও করতে পারি নি।

ইস! দেবে! দিলেই হ'ল! তোর মেয়ে আমার হাতের মুঠোয়। লোহায় ঠকে তার মাথা ভেঙে দেব। দেখবি?

বিপদ বুঝে, তাড়াতাড়ি উঠে তার হাতের মুঠো থেকে বর-কনে ছুটোকেই কেড়ে নিয়ে, লোহার বাসর-ঘরে পুরে, তালাচাবি লাগিয়ে দিলাম। লোহার বাসর-ঘর, একট! পুরাতন টিনের বাক্স

পরে ক্রন্দন, চীৎকার গর্জন। ক্রমে ক্লান্তি। অগ্রিদৃটিতে পরস্পরের দিকে চাইতে চাইতে তার! বেরিয়ে যায়।

পরে শুনলাম, ব্যাপারটা তাদের স্কুলের পর্ডিতের কাছ পর্যস্ত গড়িয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বলেছিলেন, ছুটোই ভাঁল। বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য অভিভাবকরাও তাই বলেছিলেন

ফলে, এই ব্যাপারে আমার কবিষশ পাঁড়ান্স এবং পাড়া ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ল। এমন কি, স্থানীত্র হাই স্কুলের হেডমান্টারের বিদায় উপলক্ষ্যে 'শোকোচ্ছান” আমাকেই লিখতে হয়েছিল।

১৫ উপন্যাসের উপকরণ

বু পরে একদিন দেখি মেয়ে দুটো (ছেলের মা মেয়ের মা ) গলাগলি গান গাইতে গাইতে মাঠের দিকে চলেছে আমার বাড়িতে এলে দেখতে পাবেন, নিবিকার বর-কনে আজও সেই টিনের বাক্সের ভিতর পাশাপাশি শুয়ে আছে।

্ি

এত বড় একটা উৎসব তজ্জনিত নিবাদ-বিসম্বাদের পর অবসাদ অবশ্যস্ভাবী। আমার শিশু-সাহিত্যের উপকরণগুলি আসে, যায়, খেলা করে, ঝগড়া করে, হাসে এবং কাদেও মাঝে মাঝে ঝগড়ায় হেরে গিয়ে কিন্তু প্ররূতপক্ষে সাহিত্য কিছুই হয়ে ওঠে নি।

আপনারা বলবেন, ওদের আমি যে-ভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছি, তাতে সাহিত্য তো দূরের কথা, সংসারের কোনও কাজই আমার দ্বারা সম্ভব হবে না। কথাটা! বড় মিথ্যে নয়। কিন্তু বিবেচনা করুন, ওদেরই যদি তাড়িয়ে দেব, ওদের নিয়ে সাহিত্য হবে কেমন ক'রে?

মনে পড়ে, একদ1 তরুণ-জীবনে ছুটির দিন নির্জনে বসে কবিতা লিখছিলাম। তার দুটি ছাত্র আজও আমার মনে আছে-_

মানব-কাননে ঘুরিয়। মরিব, মনের কুস্থম যতনে তুলি, গাথিয়া তাহাতে পীরিতির হার, পরিব গলায় আপন তুলি!

দ্বারে করাঘাত। বাইরে থেকে চিৎকার ক'রে বন্ধু ডাকলে, কই হে, বেরিয়ে এস, কোলাকুলিট! সেরে ফেলি।

অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে খিল খুলে দ্রিলাম। নমস্কার আলিঙ্গনের পর বন্ধু বললে, বেশ লৌক তো! আজকের দিনে ঘাড় গুজে বসে কবিতা লিখছ? তোমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার

উপন্যাসের উপকরণ ১৬

লেদিনটা ছিল বিজয়াদশমীর পরদিন। বন্ধুর সন্মেহ তিরস্কারে আমার নিজের “মনের কুস্থমে” কেমন যেন দোলা লাগল। কবিতার উপর বিরক্ত হয়ে বন্ধুর সঙ্গে বেরিয়ে পড়ি। কবিতাটা কোনও দিনই শেষ হয় নি। আবার এমনও হয়েছে, আমোদ-প্রমোদের মধ্যে, বন্ধুর মুখে এক অবর্ণনীয় বিচিত্র হাসি দেখে, হাসির কবিতা লেখবার জন্য হাত সুড়ম্থড় ক'রে উঠল, হঠাৎ গন্ভীর হয়ে বন্ধুর সঙ্গ পরিহার করি। এইভাবে অলমাণ্তড কবিতা অসম্পূর্ণ বন্ধুত্বে যৌবন আমার ভবে উঠেছিল।

কবি হতে পারতাম নিশ্চয় কিন্তু এই উভয়-সংকটে পণ্ড়ে হয়ে উঠল না। ত। না হোক। অসমাপ্ত কবিতার জন্য ছুখ করি না মোটেই, কিন্তু অসম্পূর্ণ বন্ধুত্বের জন্ত আজও আমার মন কীদে।

একটা বিষয়ে আপনারা বড় ভুল করছেন আমার এই বুদ্ধ-বয়সের ছোট ছোট বন্ধুগুলি সংসারের সকল কাজ এক মুহুর্তে লণ্ডভণ্ড ক'রে দিতে পারে সত্য ; এমন কি, উত্তর দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিক মধ্যস্থলে অর্থাৎ ৩৮ অক্ষরেখায় দলে দলে যদি লাইন বেঁধে দাড়ায়, আমার দৃঢবিশ্বী, এত বড় একটা ইন্টারেস্টিং ঘৌঁড়দৌড় বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হবে। কিন্তু কবিতা লেখার অন্তরায় ওরা একেবারেই নর়। পাখির কল-কাঁকলিতে ধ্যানভঙ্গ হয়, সে কেমন কবি?

তা নয়। শিশু-কাব্যের আসর মনে মনে বেশ একটু জমিয়ে তুলেছিলাম, কিন্তু অন্ত দিকে কোথায় যেন ফীক পড়েছে। চুপ করে বসে ভাবছি। হঠাৎ দেখে চমকে উঠি, বৃদ্ধ বটবৃক্ষের ঠিক বুকের কাছে, ছোট একটি সবুজ ডালে কবিতার খড়কুটো৷ দিয়ে ক্ষুদ্র নীড় রচনা ক'রে অচিন্‌ পাখি উড়ে চলে গেছে পথের ধারের ঘর?!

ভারি খারাপ বোধ হ'ল। আবার জড়িয়ে পড়া! আমার ছোট

১৭ উপন্যাসের উপকরণ

বন্ধুরা উদাসীন-_-জড়াজড়ির ধার ধারে না। কিন্তু এই ব্যাপারটা ঘতই ভাবি, ততই অস্বস্তিতে আমার মন ভ'রে ওঠে।

খড়কুটো দিয়ে তৈরি পাখির বাসা, কতটুকুই বা ভারী-_একটু ঝড়েই ঝ"রে পড়বে। অমন কত পাখিই তে। বাসা বেঁধেছিল, বাবুইয়ের শক্ত বাসাও টিকতে পারে নি। কিন্তু ঝড় তে! নিত্য আসে না, আকস্মিক দুর্ঘটন] মাত্র কবে আসবে তারও কিছু ঠিক-ঠিকানা নেই। ততদিন যে ধীর বাতাসে সর্বক্ষণ যুদু মৃছ দুলতে থাকবে! নাঃ, ওটাকে ঝেড়ে ফেলতে পারলেই বাঁচি! বলা বাহুল্য, আমি নিজে ঝঞ্ধার ভয় অনেক আগেই কাটিয়ে উঠেছি।

হে বুদ্ধ বট, কথাটা! কি তোমার মনের কথা? অচিন পাখি যদ্দিই তার নৃতন নীড়ে ফিরে এসে কলকৃজনে বক্ষ তোমার ভরিয়ে তোলে, তুমি কি খুব খুশি হও না? তর্কের খাতিরে না! হয় স্বীকার করি, সিগ্ধচ্ছায় আশ্রয়দাতা পুণ্যাত্বা বট পরম সত্যবাদী, তবু এইখানটাম় তার ছুর্লতা আছে, নিজের সঙ্গে নিজেই বড় মিথ্যা কথা বলে।

এও হতে পারে, আমার পক্ষে এইসব চিস্ত। অবাস্তব অবাস্তর | তুচ্ছ কবিতা শোনার স্ত্রে এক দিনেই শ্রেহসঞ্চার কি মনস্তত্বের দিক থেকে সম্ভব ? আসল কথা, শিশু-সাহিত্যের চেয়ে মনে মনে হয়তো উপন্যাসের দিকেই ঝেঁকট। ছিল বেশি

তাই যদি হয়, তবু হতাশ হবার কারণ নেই। শুন্য নীড়ে আবার পাখি উড়ে আসবে উড়ে! পাখি হলেও বনের পাখি নয়। খাঁটি খাচীর পাখি। এবং খাঁচাটা ষড় বড়ই হৌক, এই শহরের চেয়ে বড় নয়।

এইটুকু তো শহর, পথে ঘাটে, পাবলিক মীটিঙে, উত্সবে এবং ক্রিয়াকর্মে আবার কোনও দিন দেখা হয়ে যাবে। উপন্তাম কিংঝ৷

উপন্যাসের উপকরণ | ১৮

নাটক লেখ! যদি আমার ভাগ্যে থাকে, অন্ত কোন অভাবনীয় উপায়েও যোগাযোগ ঘটতে পারে। শুধু সাবধানে থাকতে হবে, যাতে রচনার বিষয়বস্ত লেখকেরও নিজন্ব বিষয়বস্তুতে পরিণত না হর। আপাতত শিশু-সাহিত্যেই সন্তষ্ট থাকা যাক।

শিশু-সাহিত্যের একটি ক্ষুদ্র উপকরণ এসে বললে, দাছু, চিঠি? পিয়ন দিয়ে গেল।

চিঠি নয়, দৈনিক-পত্রিকা। পোস্ট-পিয়ন নয়, যে রোজ কাগজ বিলি করে, সে-ই ওর হাতে দিয়ে গেছে। বোধ হয় দরজার সামনে খেলা করছিল। নিকটবর্তী মফস্বল টাউনে কলকাতার নংবাদপত্র এজেণ্টদের হাত দিয়ে সেই দিনই পাওয়া যায়।

কাগজটা হাতে দিয়ে যেন আমার পরম উপকার করেছে, এই ভাব দেখিয়ে শিশু-সাহিত্য দৌড়ে চ"লে 'গেল। কাগজধানা খুলে দেখি, হ্যা, আমার বিজ্ঞাপনটা বেরিয়েছে এই জনপ্রিয় পত্রিকাটিতে প্রতিদিনই আমার দেওয়া একটা বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। এটুকুই পড়ে দেখি, আর কিছু পড়বার দরকার বোধ করি না। সেদিন নজরে পড়ল, আমারই বিজ্ঞাপনটার পাশে কে একজন মোটা মোটা অক্ষরে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, একখানি উচ্চশ্রেণীর মাসিক-পত্র পরিচালনার জন্ত সুদক্ষ প্রবীণ লোক চাই।

কালবিলম্ব না ক'রে দরখাস্ত পাঠিয়ে দিলাম বিজ্ঞাপন-দাতার নাম ছিল না, বক্স-নস্থরে চিঠি গেল। এই ভাল, একটা কিছু রুচি-সম্মত কাজে লিপ্ত থাকতে পারব, অবশ্য যদ্দি ভাগ্যে জোটে।

এই শহর? এই বাড়ি? কিছুই যায় আসে না। আমার ষে সর্বস্থানেই “বিশ্বমায়ের আচল পাতা,

ছদিন পরেই জবাব এল। ঠিকানা দিয়ে দেখা করতে লিখেছে।

১৯ উপন্যাসের উপকরণ

আশ্চর্য, এই শহরেরই কেউ! কৌতুহল হ*ল, আগ্রহ তো ছিলই। দেখা করব স্থির করলাম।

কিন্ত আমার গুণপনার প্রর্মাণ? একরকম কিছুই নেই। এই পদের কতৃপক্ষ কি হেডমাস্টারের বিদায়শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন? কে জানে !." "স্বদেশে বিদেশে সাময়িক-পত্ত্ে প্রকাশিত লেখাগুলোই একমাত্র সম্বল, তাও খুব বেশি নয়। তারও থেকে কয়েকটা বেছে সঙ্গে নিলাম।

আমি যে একজন লেখক-_সে বিষয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই, কারণ আমি লিখি এবং সেই লেখা ছাপাও হয়েছে। অকিক্ষুত্র কৈচরা-মৌজার এক-আনির জমিদারও তো জমিদার! প্রাচীন পণ্ডিতের বলতেন-_

নরত্বং দুর্লভং লোকে বিদ্যা তত্র সুছুর্লভা, কবিত্বং দুর্লভং লোকে শক্তিন্তত্র স্থদুর্লভা |

ভাবখান! এই £ আশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ ক'রে নরজন্ম লাভ হয়, কিন্ত বি্ভালাভ সকলের ভাগ্যে ঘটে না; আবার এই বিদ্বান ব্যক্তিদের মধ্যে মানুষ-ছাকা মানুষেরাই কবি কিংবা লেখক হতে পারে, কিন্ত প্রকৃত শক্তিমান কবি কজন?

কিন্ত কত ডাইলুশনে সম্পাদক হতে পারা যায়, কাব্যশান্ত্রে লেখা নেই যদি জুটে যায়, সৌভাগ্য বলতেই হবে। লেখক হতে সম্পাদক, একেবারে ডবল গ্রমোশন !

রিকৃশা-ওয়ালাকে বলতেই সে ঠিকানা বুঝে নিলে। খুব বেশি দূর নয়, মাত্র বিশ মিনিটের পথ। নির্দিষ্ট সময়ে যথাস্থানে গিয়ে হাজির হই।

উপন্তাসের উপকরণ ি

গেটের গায়ে পিতলের প্লেটে খোদাই করা-প্রভাতরবি বরায়। বাংল! হরফে 1 নামটা মিলিয়ে দেখে, রিকৃশাচালককে অপেক্ষা করতে ব'লে ঢুকে পড়ি। দক্ষিণ-ছুয়াবী ঘরের সামনে প্রশস্ত বারান্দা, ঘরের দুয়ারে পর্দা টাঙানো বারান্দায় উঠে টুকটাক শবে বুঝতে পারি, ঘরের ভিতর লোক আছে। বাইরে থেকে ডাকি, মে আই কাম ইন?

সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকে জবাব এল, একটু অপেক্ষা করুন। মাত্র এক মিনিট থেমে বললে, আসতে পারেন

ঢুকেই বুঝতে পারি, এটা একটা ছোটখাটো ল্যাবরেটরি টিলে পায়জামা, হাতকাট। জামা, পায়ে চটি পরে এক ভদ্রলোক একমনে কাজ করছেন। দৈর্ঘে আমার সমকক্ষ, কিন্ত প্রস্থটিও তছুপযুক্ত-_- স্থুলত্বে নয়, শক্তির আধার স্বরূপে মুখ না তুলেই জিজ্ঞাসা করলেন, কি চাই আপনার?

আমি আমার প্রয়োজনের কথা বলি। মুখ তুলে, সোজা হয়ে দাড়িয়ে আমার দিকে চাইলেন। বিদ্যাসাগরের কপাল, বিবেকানন্দের চোখ আনু মাইকেলের চিবুক দিয়ে তৈরি সে মুখ। (বলা বাহুল্য, ও্পন্তাসিক ঘ৷ বর্ণনা করেন, পাঠক তার সিকিখানাও গ্রহণ করেন না। সেইজন্য উপন্তাস-লেখকদের সব কথা বাড়িয়ে বলতে হয়। )

তিনি বললেন, বুঝেছি কিন্তু বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে এঁ ঘরে দেখা হবে।__এই ব'লে পাশের ঘরের পর্দার দিকে হস্ত-নির্দেশ করলেন একটু থেমে কি ভেবে বললেন, আচ্ছা, দাঁড়ান ।-.. যাও তো পুণিমা, ভদ্রলোককে ও-ঘরে নিয়ে

যাকে লক্ষ্য ক'রে শেষের কথাটা বল! হ'ল, তাকে আমি এতক্ষণ লক্ষ্যই করিনি। ঘরের এক কোণে টেবিলের কাছে বসে নিবিষ্ট মনে

২১ উপন্যাসের উপকরণ

কি লিখছিল। বসে বমেই বললে, যাই। একটু পরেই এগিয়ে এসে বললে, আস্থন আপনি

পর্দা ঠেলে ভিতরে ঢুকল আমি বাইরেই দাড়িয়ে থাকি |:

পরিষ্কার গলায় হুকুম এল, কাম ইন, সার্‌।__-এ দেখছি অতি মডার্ন

হুকুম তামিল ক'রে দেখি, ঘরে দে একা, আর কেউ নেই | জিজ্ঞান্থ্‌ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম

বললে, আপনি বস্থন, ডেকে দিচ্ছি বোধ হয় অন্য ঘরে আছেন। এই বলে চলে গেল।

আমার একট! সাহিত্যিক ম্যানিয়া আছে, মেয়েদের রূপ-বর্ণনায় তিথির আশ্রয় গ্রহণ করি-_দ্বিতীয়া হতে পুণিয়া পর্যন্ত এই মেয়েটির পূনিমা নাম না শুনলেও বলেই ডাকতাম

বসে বসে ভাবছি, কোৌঁন্‌ গ্রহের ফেরে প্রবেশ করতে এলাম! আমার “কতপক্গ' হবে ওই ভদ্রলোকের স্্ী--তার কাছে তরুণী, আমার চোখে বালিকা! অদৃষ্টে কি লেখা আছে, কে জানে কিন্তু তখন আর ফেরবাঁরও পথ ছিল না।

এমন সময়, আমাকে অতিমাত্রার বিস্মিত ক'রে ঘরে এসে ঢুকল নবমীর জ্যোৎন্সা অর্থাৎ সেই মেয়েটি, যে বীধানো খাতা নিয়ে গিয়েছিল আমাকে কবিতা শোনাতে পথের ধারের ঘর

বিধিলিপি ! নাট্যকার কিংবা উঁপন্যাসিক আমাকে হতেই হবে। তা না হ'লে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন থেকে আরম্ভ ক'রে বর্তমান পরিণতি উপন্তাসের বক্রগতি না নিয়ে সহজ প্রত্যাশিত পথেই এসে পড়ত-_ছুদিন আগে, না হয় পরে। এর আগেও রকম অনেক হয়েছে। হুবহু মিলে যাচ্ছে। যে অত্যাবশ্যকীয় মূল্যবান আাংটিটা মাছে গিলেছিল, দ্রকারের সময় মাছটাই গিয়ে ছুম্মন্তের দেউড়িতে ধড়ফড় করতে থাকে।

জজ

উপন্যাসের উপকরণ ২২

বাঘের পেটে যাওয়ার জন্য প্রস্তত নবকুমীর সাক্ষাৎ পেলে হথন্দরী যোড়ণী কপালকুগুলার-_সবই কপালে করে! বৃষ্টি যদি না নামত, কমলা যদি না ভিজত, শরৎচন্দ্রের “শেষ প্রশ্ন” শেষ হ'ত না। নৌকাডুবি ংবাদপত্রের প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়বস্ত, কিন্তু বউ-বদল খাটি

উপন্যাসের |

আমার উপন্তাদের একমাত্র উপকরণ অপ্রত্যাশিতভাবে ফিরে পেয়ে উল্লসিত হয়ে উদ্ঠি। মনে মনে সংকল্প করি, চতুর ভিটেকুটিভ যে সতর্ক দৃষ্টি নিয়ে তার সন্দেহের পাত্র অপরাধীর অনুসরণ করে, ওর মনের উপর ঠিক তেমনি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অস্তত শুধু এই কারণেই সম্পাদকের পদটা আমার পাওয়া চাই !

নবমী মোটেই আশ্চধ হ'ল না_ কেনই বা হবে? তো দরখান্কেই আমার নাম পেয়েছিল

কিন্ত আমার নাম? কেমন ক'রে জানলে ? আশ্চর্য হই এবং এই ভেবে আরও আশ্চর্য হই যে, আগে কেন আশ্চষ তই নি? প্রশ্নটা এতদিন আমার মনেই ওঠে নি। আমার বাড়ীর দরজায় পিতলের প্রেটে কিংবা মার্বেল-পাথরে নাম লেখা নেই-_-ওসব আমি পছন্দ করি না। উপন্যাস নাট্য মাহিত্যে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদিত ভতে চলল, তার কাছে সব তুচ্ছ। পেয়েছি, স্থুযোগ পেয়েছি!

ক্টবুক্ষ, তুমি বড় উচ্চাভিলাষী

যতদিন না ঝড়ের দাপটে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ততদিন পর্যন্ত তার আকাঁশম্পর্শী স্পর্ধাটুকু উপভোগ করবার স্থযোগ দিলে দয়াধর্মই পালিত হবে।

তা ছাড়া, আরও একটা! মন্ত কথা, কেমন ক'রে বুঝলে সে, আশ্মি তার কবিতা শোনবার যোগ্য লোক?

২৩ উপন্যাসের উপকরণ

তবে শুনুন, সাহস দেন তো! বলি। বাঙালী পাঠকদের আমি বড় ভয় করি, তার! লেখকদের মনের তলা পধন্ত খুঁড়ে খুঁড়ে দেখতে চান। মন কিন্তু আধার ঘরের কোণ- বিশেষ ক'রে আমার মন, দীর্ঘকালের পতিত বাড়ির ভাঙা ঘর, বহুদিন ধরে একট] মাটির প্রদীপও জলে নি। এরূপ ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি অপরিহার্য ফলে হতাশ হৃদয়ের নিরুপায় চিৎকার দাম্তিকতা ব'লে, পরাজয়ের লজ্জা অসামীজিকতা! ব'লে পরিগণিত হয়, উন্মাদের অট্রহাসি হাশ্যব্রসের উপকরণ যোগায় আমার এক কবি বন্ধু রাগলে পরে কেঁদে ফেলতেন, দুঃখ পেয়ে হাসতেন, হাসি পেলে রেগে উঠতেন।

ব্যাপারট| যে কোনও স্ুপন্রিপক উপন্াসিক “কলা'কেও শান ক'রে দেবে। কিছুদিন আগে, কোনও এক স্থপরিচিত বাংল! পত্রিকায় আমার একট| লেখা বেরিয়েছিল আমার কোনও ভক্ত পাঠিকা যদি সেখান থেকে আমার নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ক'রে থাকে, সে অপরাধ 'আমার নয়।

তারপর প্রশ্ন ওঠে, বাড়ি চিনলে কেমন ক'রে? ডাক-পিয়ন এবং খবরের কাগজওয়ালা ভিন্ন আর কেউ আমার বাড়ি চিনত না। কে জানত, এক বাঙালী তরুণী তার কবিতা শোনাবার জন্য শার্লক হোম্সের মতই এতদিন ধ'বে আমার সন্ধান নিচ্ছিল।

অস্তত, গল্প উপন্যাসের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে হতে পারে, আমার লেখাটাই তাকে গোড়া থেকে আমার সম্বন্ধে নিঃসংকোচ সাহসী ক'রে তুলেছিল।

ছেলেরা বলে, আমরা ভাল; মেয়েরা বলে, আমরা লেখাটাতে এমন একটা সামগ্রন্ত বিধান করা হয়েছিল, যাতে ছেলের ভাববে, আমাদের প্রশংস। করা হয়েছে; মেয়েরা! ভাববে, আমাদের

উপন্তাসের উপকরণ ২৪

কিন্ত যে মেয়েটি আমীর লেখা পণড়ে গুণগ্রাহিতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়েছে, নিশ্চয় সে সবার চেয়ে ভাল। আমার সন্গেহ দৃষ্টি অনুধাবন অনুসরণ ক'রে সে ব্ললে, আমি জানতে পেরেছিলাম, আপনি আসবেন।

ত1 তো! পারবেই, চীকরির ডাঁক--একেবারে পাকা নেমন্তন্ন

কথাটা শুনে নবমীর মুখে পঞ্চমীর মান জ্যোৎস্না ফুটে উঠল। অনুতপ্ত কে উত্তর দিলে, না, সে জন্যে নয়। আমার ইচ্ছাশক্তি আপনাকে টেনে এনেছে।

ইচ্ছাশক্তি! তার মানে ?

সেদিন সকালে মনে পড়ল, আপনাকে আমার কা দিয়ে আসতে ভুলেছি। শ্রম-সংশোধনের উপায় স্থির করছি, এমন সময় দরখাস্তখান! এসে পড়ল।

অর্থাৎ মান্গুষট। অন্ুমনন্ক হলেও নিমন্ত্রণটা ছিল আন্তরিক 1-*.এখন কাজের কথা বল। মাইনে কত?

আমার কথার নে বিব্রত হরে উঠল। ব্ললে; আপনি করবেন চাকরি নিয়ে আমার কাজ ! লৌকে বলবে কি?

কেউ আমাকে চেনে ন]।

ভুল ধারণা এই সেদিন আমাদের বাড়িতেই জনকয়েক ভদ্রলোক ম্যান আযাণ্ড উওম্যান” পত্রিকায়. প্রকাশিত আপনার একটা প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আপনাকে আবিষ্কারের গৌরব আমারই প্রাপ্য, কথাও তীরা শ্বীকার করেছেন।

মনে মনে খুশি হ'লেও মুখে বিষণ ভাব এনে বললাম, তুমি আমাকে হতাশ করলে। আমি ষে কাজের অভাবে মার! যাই।

তা হ'লে কাজ পাবেন, মাইনে পাবেন না।-_-এই ফলে হেসে উঠল।

২৫ উপন্তাসের উপকরণ

তার মুখে হাসির শব্ধ এই আহি প্রথম শুনলাম। কে যেন লঘুহস্তে অতি অল্পক্ষণের জন্য হালক! কাঠি ঠেকিয়ে দিলে জলতরঙ্গে !

বটবুক্ষ, আবার?

মনে মনে ভাবলাম, মাইনে নেই, তবু কাজ ছাডা হবে না। সম্মুখে উজ্জ্বল ভবিষৎ” একখানি উৎকৃষ্ট উপন্যাস

কি করতে হবে আমাকে ?

আমাদের সাহিত্য-প্রচেষ্টার আমরা আপনার সাহাষ্য চাই। একখান! মাসিক-পত্র বের করব মনে করছি, আপনি তাঁর আদর্শটিকে খাঁড়া করে দেবেন। বিশেষ কিছুই করতে হবে না, শুধু এবটু নজর রাখ]

কাজও নেই, মাইনেও নেই, অর্থাৎ আমার চাকরি হল না, কেমন ? তা হ'লে এখন আমি উঠি।

আমার কথায় নবমীর মুখখান1 সাদা মেঘে ঢাকা জ্যোত্ম্ার মতই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কিন্তু তৎক্ষণাৎ সেটা সামলে নিয়ে সগ্রতিভ ভাবে বললে, না না, তা কেন হবে? কাজ আপনি ইচ্ছামত করবেন, দায়িত্ব নিয়ে নয়, উপদেশ দিয়ে। এর বেশি কি আপনার করতে পারি ?--এই গেল কাজের কথা। চাকরির অপর অঙ্গ, মানে আপনার দ্বিতীয় প্রস্তাব সম্বন্ধে আমি এই বলতে চাই, জিনিসটা আপনি যেদিন আমার কাছে চাইবেন, আর ন1 চাইলেও যেদিন আমার দেবার অধিকার হবে, সেদিন ওটা যংকিঞ্চিং থাক আমার জীবনে সার্থক হয়ে উঠবে।

মেয়েটা ক্রমেই মুখরা হয়ে উঠছে, কথার মধ্যে ওপন্তাসিক প্যাচও প্রচুর। ক্রমেই আমি বেশি মাত্রায় আশান্বিত হয়ে উঠি। এই সব তরুণ মনে একটুখানি নাড়া না! দিলে, পাপড়িগুলো খুলতে চায় না। অতএব--

উপন্যাসের উপকরণ ২৬

কিন্ত আমার কতৃপক্ষ কে? তুমি, না, মিস্টার বায়? অর্থাৎ চাকরির তৃতীয় অঙ্গ প্রভৃ-ভৃত্য-সন্বন্ধ, সেটা কাঁর সঙ্গে হবে?

পরিষ্কার গলায় উত্তর হল, আমার সঙ্গে | কিন্তু কথাট। সব ক্ষেত্রে সমান খাটে না মাইনে-করা মাষ্টার তার ছাত্রের চাকর নন নিশ্চয়।

হার মানতে ভল। অন্রতপ্তের অভিনয় ক'রে বললাম, আমি তোমার চাকরি নিলাম। মিষ্টার রায়ের মত হবে তো?

তার সঙ্গে আমার মতের মিল সব বিষয়েই আছে ।-_ হেসে বললে, যদিও মনের মিল একট্রুও নেই। তিনি আছেন বিজ্ঞান-সাধনায়, আমার আছে কবিতা কেউ কারও অধিকারে হস্তক্ষেপ করি না।

আশ্চধ এরা! মতের মিল আছে, মনের মিল নেই। অদম্য কৌতুহলে এই বয়সেও আমার বুক ফেটে যাবার উপক্রম। ভদ্রতার খাতিরে কৌতুহল দমন ক'রে সহজভাবেই' জিজ্ঞাসা করি, তা হ'লে আমি বাঁহাঁল?

শিশ্চয়। কিন্তু আপনি চা খেয়ে যান।

সে আর একদিন হবে।

নিজের ভূলের জন্য লক্ষ্িত হ'ল। অতিথিকে পেয়ে, আনন্দের আতিশয্যে অভ্যর্থনাটাই যদি বাদ পড়ে ঘাঁয়, তার চেয়ে আন্তরিক অভ্যর্থনা আর কি হতে পারে ?***উঠে দাড়াই

পথ দেখিয়ে গেট পর্যন্ত পৌছে দিলে, কিন্তু ভিন্ন পথে, ল্যাবরেটরি- ঘরের ভিতর দিয়ে নয়।

পিছন থেকে ডেকে বললে, মাঝে মাঝে আসবেন কাকাবাবু আমার তো সব সময়ে যাওয়া সম্ভব নয়!

কাকাবাধু?

ওপন্তাসিক, মাবধান।

হ্শঃ

এই তো উপন্তান। আমি যখন দেশ ছেড়ে চ'লে যাই, পিতৃতুল্য বয়স্কের সঙ্গে অল্প-পরিচিত তরুণীর পূর্ব-পরিচ্ছেদে বণিত ভায়ায় কথাবার্ত উপন্যাসেও অদ্ভুত ঠেকত। বোধ হয় উপন্যাস থেকেই শিখেছে ওরা। ভাগ্যক্রমে এই ভাষাটা আমারও কিছু কিছু জানা ছিল। আমি এব নিন্দাও করি না, প্রশংসাও করি না; কারণ, এতে লাভ হয়েছে, না» ক্ষতি হয়েছে-__মোটেই আমার জান। নেই। আমল কথা, এত কথা মেকালের মেয়েরা জানতই ন1।

আজ আর দরজ! খুলে বস! নয়। সুন্দর একটা গল্পের প্লট জমে উঠেছে। দরজায় খিল এ'টে বাঁধানো খাঁতাটায় লিখতে আরম্ভ করি-_-

“মতের মিল মনের মিল

প্রথম পরিচ্ছেদ

দাম্পত্যকলহকে সেকালের মনীষীরা রমসিকতা-চক্ষে দেখিয়াছিলেন, ইহার প্রধান কারণ এই ষে, তাহারা ভালভাবেই জানিতেন, যেখানে মনের মিলের অভাব নাই, সে ক্ষেত্রে ছোটখাটো! মতের অমিলে কিছুই যায়-আসে না। কিন্তু ধীরা অধীরের দাম্পত্যজী বনে--”

লেখার ঝেোক বেশ একটু জ'মে আমছিল, কিন্তু আমার ছূর্ভাগ্য, বাইরে থেকে শঙ্খধবনি হল-_বাঁড়িতে আছেন? আসতে পারি কি?

বিরক্ত হয়ে উঠে গিয়ে খিল খুলে দিলাঁম। তবু ভাবলাম, জগতে সকল মহৎ কার্ধই পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়। সংসার পরীক্ষার ক্ষেত্র

উপন্যাসের উপকরণ ২৮

শুরুতেই গুরুতর বাধা, একে আমি প্রবেশিকা পরীক্ষা! ঝলে ধ'রে নিতে পারি।

বিরক্তি বিস্ময়ে পরিণত হ'ল, যখন দেখলাম আমার সম্মুখে দাড়িয়ে ডক্টর রায়। খেজুর গাছের সামনে শাল্সলী তরু!

রক্তকরবীর কবির পদাঙ্ক অনুসরণে এতদিন নিজেকে বটবুক্ষের সঙ্গে উপমিত করেছি এখন তুলনামূলক সমালোচনার নিজের ভূল বুঝতে পারি।

নব্মীর টেবিলের উপর একথান। ছেঁড়া! খাম আমার নজরে পড়েছিল, ঠিকাঁনাটা পরিচ্ছন্নভাবে টাইপ-করা। তাতে লেখা ছিল্-_-ডক্টুর প্রভাতরবি বায়, ডি, এসপি, (লগ্ডন )। তারপর এই শহরের নাম

হবার হ'লে এমনি করেই হয় গল্পের উপাদান আপনি এসে জুট যায়।

অতি সত্বর বিল্ময় ভয়ে পরিণত হ'ল। একে তরুণ যুবক, তাতে সাহেবী মেজাজ আমার ভয় হ'ল, তার দ্দরীর সঙ্গে আমার যে কাজের বন্দোবস্ত হয়েছে, তা সে পছন্দ করে নি, হয়তো খানাপ চোখে দেখেছে কে জানে ওদের মনের কথা তবে তার হাতে বেত নেই দেখে কতকটা আশ্বস্ত হই। বেতের জ্বলুনি মামি সইতে পারি ন।।

মাথা নীচু ক'রে বাংল! কায়দায় নমস্কার ক'রে হাসতে হাসতে বললে, দেখুন, আপনার পক্ষে | আঁমোদ, আমাদের পক্ষে তা বিপজ্জনক হতে পারে। সাহিত্যিক রসিকতা বাস্তব পরিহাসে পরিণত হওয়া উচিত নয়। আপনি বোধ হয় একটুখানি নাড়াচাড়া করে দ্রেখলেন, আজকালকার মেয়ের] কতদূর ধুষ্ট হতে পারে__-এই না?

এদের কথাবার্তা শুনে মনের ভাব বুঝতে দেরি হ্য়। ভয়, বিশ্ব জিজ্ঞাসা নিয়ে আমি তার মুখের দিকে একদুষ্টে চেয়ে রইলাম।

২৯ উপন্যাসের উপকরণ

বললে, আমি তার তরফ থেকে ক্ষমা চাইতে এসেছি বলেন কি? আপনি হবেন তার সেক্রেটারি? ছেলেমান্ষি আর কাকে বলে!

এই কথা যাক, বাঁচা গেল যে আরকিছুনয়। সামলে নিতে কিছুক্ষণ লাগল। বললাম, বুড়োমানহ্ষি আর ছেলেমাহ্ুষিতে তফাৎ নেই বড়। অল্প আলাপেই ওকে আমার ভাল লেগেছে, ওকে আমি সাধ্যমত সাহায্য করতে চাই। তবে আপনার বদি আপত্তি থাকে-_

আহা, বেচারা জানে না যে, আমার পেটের ভিতব্র উপন্যাসের প্রট গিজগিজ করছে সোৎসাহে বললে, আপত্তি? আপত্তি হবে কেন? তবে আমার হিংসে হচ্ছে দস্তরমত। আপনার সাহায্য পেয়ে আমার আগেই বিখ্যাত হয়ে উঠবে। খানিক থেমে গম্ভীর হয়ে বলতে লাগল, যথাসাধ্য বিজ্ঞান-চর্চা করি--অতসীর মুখে শুনে থাকবেন। কোনও একট] বিষয়ে রিসার্চ করছি। আমি আমার বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ সব বাংলায় লিখি।

কেন? ওর অস্থৃবিধা৷ প্রচুর

তাঠিক। কিন্তু আমরা আমাদের আবিষ্কার ইংরিজীতে লিখব, তবে সাহেবলোক তা দয়া ক'রে পড়বেন--এ আমি সইতে পারি না। গরজ থাকে তো তঙ্জমা ক'রে নিক না!

বৈজ্ঞানিকের পক্ষে ভাবুকতা যুক্তিসহ কি না৷ ভেবে দেখবার বিষয়, তবু শ্রদ্ধা হ'ল। সত্যিকার শিক্ষিত স্বাধীন মন, সন্দেহ নেই

শাল্সলী মানে শিমুল গাছ। বিশালতা তার প্রশংসার দিক। কিন্তু ওর ফুলের একটা কাব্যিক কুখ্যাতি আছে। দেখা গেল, ক্ষেত্রে সেটা অবাস্তর এবং আমার পক্ষেও আমার স্থির লক্ষ্য-_

অতশী! নবমীর নাম তা হ'লে অতসী। উপন্াসে মানাবে ভান। আমরা কোনও দিন স্বীর নাম বয়োজ্যেষ্ঠের কাছে করি নি--এ” ৪,

উপন্যাসের উপকরণ ৩০

দিয়ে কাজ সেরেছি। যাই হোক্‌, বোঝা গেল, মনের মিল না থাকলেও দুজনের মধ্যে বাক্যালাপ বন্ধ হয় নি, এখনও আশা আছে

দুঃখিতভাবে সে বলে চলল, কিন্তু আমার ভাষাশিক্ষা মোটেই হয়নি, ছেলেবেলা থেকে আজ পর্ষস্ত। লিখতে লিখতে অনেক সময় খটকা লাগে। আমি আশ্চর্য হই, এই রকম শিক্ষার আওতায় কেমন ক'রে দেশে বড় বড় কবি-সাহিত্যিক গণড়ে ওঠে। সাধারণ শিক্ষা- পদ্ধতির সঙ্গে প্রতিভার কোনও যোগ নেই, তার জলন্ত গ্রমাণ__ বাডীলী লেখক।

বক্তৃতার মাঝখানেই বলে ফেলি, কিন্ত শ্রীমতীর তো বাংলা ভাষায় দখল ছিল, চেষ্টা করলে সাহাধ্য করতে পারত।

কি যে বলেন! একখান! বাধানো খাতা হাতের কাছে পেলে ওর কবিতা লিখতে ইচ্ছা হয়। কতক মেয়েলী ছাড়া, বেশির ভাগ হালকা প্রেমের কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয়, হয়তে। অনধিকার- চর্চা করছে, না হয় আমার সঙ্গে পরিচয়ের আগে আর কাউকে ভালবাসত।--এই বলে হামির সঙ্গে সঙ্গে আমার ক্ষুদ্র কক্ষটি ভ'রে দিলে।

সর্বনাশ! কি সাংঘাতিক হেলেমেয়ে এইসব আধুনিক তরুণ- তরুণী! বলে, মনের মিল নেই ; বলে, আর কাউকে ভালবাসে তিরিশ বছর আগে ঘদি আমার ষাট বছর বয়স হ'ত, এই ধরনের ধুষ্টতার জন্য অপমান বোধ করতাম। কিন্ত এখন নিরুপায়। উপন্যাস লেখার খাতিরে বই আমাকে সয়ে যেতে হবে।

একটা কথা হঠাৎ আমার মনে পড়ল। অসন্তষ্টভাবে জিজ্ঞাস| করি, সেই মেয়েটি কে, যাকে সেঙ্গিন "পৃণিমা” ব'লে ডাকলেন ?

আমার জিজ্ঞাসার ভঙ্গীতে কথার ইঙ্গিতে থতমত খেয়ে উত্তর

৩১ উপন্যাসের উপকরণ

দিলে, ওর সাহায্যেই কোনও রুকমে কাজ চালিয়ে নিই। যন্ত্রপাতি তাঁতের কাছে এগিয়ে দেয়।

অর্থাৎ দে ওর বিজ্ঞান-সাধনার আযাসিস্টাণ্ট, মানে উত্তরসাধিকা। অথচ স্বামী-স্ত্রীতে ভাব নেই ব্যাপারটা! বিশ্রী বলে মনে হ'ল। না, উপন্যাস আমার মাথায় থাক্‌, এদের সংকরবে আর নয়, কখনও না। ব্যক্তিগতভাবে কোনও ভদ্রলোকই উপন্যাসের চরিত্রে পরিণত হতে চায় না। গম্ভীর স্বরে বলি, আমার হাতে একটু কাজ আছে ভেবে দেখব, বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় আপনাকে কিছু সাহাযা করতে পারি যদি। তবে আমার সময় খুব কম।

সময় খুব কম!

আচ্ছা, আজ তবে আসি ।-_আঁমাকে গম্ভীর এবং অপ্রসন্ন দেখে চকিতে নমস্কার ক'রেই উঠে চ'লে গেল। প্রতি-নমস্কারের প্রয়োজন, বুঝলাম না

, শিমুল গাছের কাটা! ফুলও কি তবে তাই?

এই প্রকারের চিত্বৰিক্ষোভ গল্প-লেখকদের পক্ষে ক্ষতিকর। আত্ম- সংবরণ করতে কিছুক্ষণ কেটে গেল। এইসব বাধাবিদ্বর অপরিহা্ধ ভেবে শাস্তভাবে কলম ধরি হ্যা, কি লিখছিলাম ?"""ধীরা অধীরের, দাম্পত্যজীবনে-_

“এই ধরনের একটা গুরুতর সমস্যা কোথায় যেন কুগুলাকারে লুকাইয়া ছিল, আজ ধীরে ধীরে তাহা ফণা তুলিতেছে। দংশন করিতে কতক্ষণ? অবশ্য ইহা সত্য যে, মতের মিল লইয়াই তাহারা মিলিত হইয়াছিল, কিন্ত আজ বহুদিন পরে তাহাদের চোখে স্পষ্ট ধরা পড়িল, মনের মিল তাহাদের একটুও নাই। কেমন করিয়া হইবে? যেখানে পারস্পরিক বিশ্বাস নাই, নির্ভরতা নাই, সেখানে ভালবাসার স্থান

উপন্যাসের উপকরণ ৩২

কোথায়? জীবনে যে ভূল তাহার! করিয়াছিল, তাহার ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করিতে বসিলে বিস্মিত হইতে হয়।

কথ! সত্য বে, নরনারীর চিরন্তন বুভূক্ষা লইয়াই তাহার! মিলিত হইয়াছিল। তখন কে জানিত যে, সেই ক্ষুধার অন্তরালে প্ররূত কোনও চাহিদা ছিল না, নিতান্তই চক্ষুর ক্ষুধা? একদিন যাহা! লৎুচ্ছন্দে জীবনের প্রতি পাদক্ষেপকে লঙ্গীতময় করিয়া তুলিয়াছিল, আজ তাহাই গুরুভার হইয়া তাহাদের দৈনন্দিন কর্ম চিন্তাকে তিক্ত করিয়া তুলিল। এই নিষ্টর সত্য উপলদ্ধি করিয়া উভয়েই পৃথকভাবে শিহরিয়! উঠিল

শরতের ন্সিপ্ধোজ্জল প্রভাতে গোপীমোহন দত্ত লেনের দ্বিতল ভাড়াটিয়া বাড়ির নির্জন ছাদে বসিয়া ধীরে এই কথাটাই ভাবিতেছিল। তাহার মাথার উপর দিয়! একটা চিল উড়িয়া! গেল। দুরে আগমনীর বাজনা বাজিয়৷ উঠিল। অধীর বাড়িতে ছিল না, নিকটস্থ রেস্ট বেণ্টে চা খাইতে গিয়াছিল।

_-কি ভাবছ ধীরা? কণ্ঠস্বরে চমকিত হইয়া ধীরে ধীরে মুখ ফিরাইল ধীরা। পশ্চাতে অধীর | তাহার এক হাতে চায়ের কাপ অন্ত ভাতে এক প্লেট গরম পিডাঁড়া।

ধীরা উঠিয়া দীড়াইল। অধীরের ভাত হইতে চা পিডীড়। লইয়া নামাইয়। রাখিল।

_-ও কি ধীরা, তুমি কাদছিলে ?--ফুপাইর কীদিয়া উঠিল ধীর1।৮

এই পর্যস্ত লিখে ভারি খারাপ বোধ হ'ল। প্রেমের গল্পে কলম পিষে ক্লান্ত হয়েছি কি?

আজ বুঝতে পারছি, কল্পনার ক্ষেত্রে যেসব চবিত্র নিয়ে বেপরোয়া কারবার চালিয়েছি, তারা যদি জীবন্ত মানুষ হ'ত, আর তাদের উপর আমার যদি একটুও মায়া-মমতা থাকত, তা! হ'লে ততটা বাড়াবাড়ি

৩৩ উপন্যাসের উপকরণ

করতে রাঁজি হতাম না নিশ্চয় আমারই লেখা “নিরুদ্দেশ” উপন্াসের নিরুদ্দিষ্টা অণিমার কীতিকলাপ মনে পড়ল। অণিম1 যদি আমার মানসকন্তা! না হয়ে না, সে কথা আমি ভাবতেও পারি না। কেউ পারে না।

মাত্র ছুদিনের্র আলাপে নবমীকে আমি যতটুকু স্সেহ করেছি, তাই যথেষ্ট হয়ে প্রেমের গল্প সম্বন্ধে মনকে আমার বিতৃষ্ণায় ভরিয়ে দিলে

না, কবিতাই ভাল, সবচেয়ে ভাল শিশু-সাহিত্য

এই গল্পটাও অসমাপ্ত রয়ে গেল। আমার পাঠকদের জন্য আমি দুঃখিত ; তাদের মনে কৌতৃহল থেকে যাবে, শেষ পরধন্ত ধীরা চা-সিঙাড়া খেল, না, কাদতে থাকল এবং অস্তিমে-_-মানে, গল্পের শেষের দিকে ভাদের মনের মিল হ*ল, না, একদম ছাড়াছাড়ি? মতের জয়, না, মনের জয়? তবে, এই ভেবে সাত্বনা পাই যে, এসব লেখা কোনও দিনই কোনও পাঠকেরই হাতে পৌছবে না।

সারম্বত-বিনোদের আম্বাদ ধার! পেয়েছেন, তারা জানেন, হাতের কাছে সাদা কাগজ, কালিকলম আর অবসর পেলে তারা চুপ ক'রে বসে থাকচুত পারেন না! যতই অকিঞ্চিংকর হোক, এই ধরনের একটা ঝেশক আমারও ছিল; ছিল কেন, এখনও দস্তরমত আছে। কিন্তু এই ছুটে দিন ধ'রে জরে মুখে তামীকের ধোয়ার মত ও-জিনিসটা বড় বিশ্বাদ ঠেকছে যেন। এই অরুচি যদি স্থায়ী হ'ত!

আজ সকালে উঠে, একটা ঈজি-চেয়ারে গা ঢেলে দিয়ে বসে বসে ১০

উপন্যাসের উপকরণ ৩৪

শুধু ভাবছি। মনের ভিতর সন্ধান নিয়ে জানতে পারি, আমার এই